করোনা মহামারী পরবর্তী 5 টি Important পদক্ষেপ যা নেওয়া দরকার

 ➡ করোনা মহামারী পরবর্তী 5 টি Important পদক্ষেপঃ

করোনা মহামারী(COVID-19) থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে এই ভাবনার পাশাপাশি আমাদের এটাও ভাবা শুরু করে দিতে হবে যে কীভাবে আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করতে পারি।

এই মহামারীটি যে তান্ডবলীলায় পৃথিবীকে তছনছ করে দিচ্ছে তা আবার কীভাবে সাজাবো আগের থেকেও সুন্দরভাবে..এটা এখনই ভাবা শুরু করে দিতে হবে।

সমস্ত জাতি এবং সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম দিতে পারে।

বিভিন্ন দেশের সরকার লকডাউনের নিষেধাজ্ঞাগুলি শিথিল করতে এবং অর্থনীতি পুনরায় চাঙ্গা করার উপায় সন্ধান করতে শুরু করে দিয়েছে।

আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে জীবনযাত্রা আর আগের মতো পালন করলে চলবে না। আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে যে আমরা কীভাবে পরিবর্তনের কাজ করতে পারি যাতে আমরা আগত প্রজন্মের জন্য আরও ভালো ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।

করোনা মহামারীটি আমাদের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় এক ভয়াবহ অসমতার সৃষ্টি করছে,এই অসমতা যা মানুষের জীবন এবং সুযোগকে গুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, এই অসমতা যা ভবিষ্যতে আমাদের দূর করার ব্যাপারে অগ্রণি হতে হবে।

নিচের পথগুলি অনুসরণের জন্য সমস্ত দেশ এবং সমাজের সমস্ত বিভাগের মধ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অভূতপূর্ব সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি আশাবাদী যে এটি সম্ভব।

করোনা মহামারী পরবর্তী 5 টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ


 ➡ (১)পৃথিবীকে রক্ষা

আমরা সবাই পরিবেশ পুনরুদ্ধারের লক্ষণগুলি দেখতে এবং অনুভব করতে পাচ্ছি। আমাদের কেবল বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের কথা ভাবলে চলবে না , স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্যও অনেক বেশি আগ্রহী হতে হবে। উৎপাদন পদ্ধতির পরিবর্তন কীভাবে করা যায় যা পরিবেশে উৎপাদনের কু-প্রভাবগুলোর নিরাময় করতে পারে তা ভাবতে হবে।

এখন আগের চেয়ে আরও বেশি, আমাদের সমাধানগুলির ব্যবহারিক প্রয়োগ করতে হবে। এমন কিছু উপায় সন্ধান করতে হবে যাতে পরিবেশের হানিকর আমাদের অভ্যাস গুলোর অবসান ঘটাতে পারে এবং আগত প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে একটি “জীবন্ত গ্রহ” নিশ্চিত করতে পারে। আমাদের অবশ্যই এমন সমাধানগুলিতে বিনিয়োগ করতে হবে যা মানুষ এবং গ্রহকে এক সাথে সমৃদ্ধ হতে সহায়তা করে।

 ➡ ২. নবীনিকরণ শক্তিকে সকলের জন্য আরও সহজলভ্য করতে হবে

মহামারীটি আমাদের দেখিয়েছে যে জীবাশ্ম জ্বালানী কীভাবে আমাদের পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং সেগুলির ব্যবহার বন্ধ করায় কীভাবে পরিবেশ দ্রুত তার পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখাতে শুরু করে দিয়েছে।

নবিনীকরণ যোগ্য শক্তির ব্যবহার এখন আরও এক ও অদ্বিতীয় সমাধানসূত্র হয়ে উঠেছে।তাই লক্ষ লক্ষ মানুষের লাইফলাইনে এটির সহজ ও সুলভ সরবরাহ জরুরী, তবেই ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এটি একটি উজ্জ্বল, সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার অনুঘটক হিসাবেও কাজ করতে পারে।

নবিনীকরণযোগ্য শক্তি হ’ল একটি সোনার সুতো যা আমাদের জীবনের সমস্ত দিক একসাথে বুনে।এটি আমাদের এবং আমাদের গ্রহের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করেই আমাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল এবং হাসপাতালগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। তাই এই বিষয়ে বিশাল পরিমান বিনিয়োগ এখনই প্রয়োজন।

 ➡ ৩)খাদ্য উৎপাদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন

আমরা সকলেই বুঝতে শুরু করেছি যে আমাদের কৃষি ব্যবস্থাটি কতটা নাজুক এবং বিশ্বের এক অংশে মানুষ, জমি এবং প্রাণীর মধ্যে সম্পর্ক যে কোনও জায়গায় প্রভাবিত করতে পারে। এখন আগের চেয়ে আরও বেশি বিশেষজ্ঞ যুক্ত মডেলগুলির প্রয়োজন যেখানে মানুষের প্রয়োজনীয় পুষ্টির পাশাপাশি তা শরীরকে রোগজীবাণুগত প্রভাব থেকে দূরে রাখবে।

 ➡ ৪)কাজের সূযোগ তৈরি ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদোক্তাদের উৎসাহ প্রদান

যে ব্যাপক হারে মানুষ কাজ হারাবে তাদের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। অসংগতিত শ্রমিকদের কথা ভাবতে হবে।ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যে বিশাল পরিমান কাজের সুযোগ করে দেয় তা আবার পুনরুদ্ধার করতে হবে।সাফাইকর্মী,পরিবেশকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত মর্যাদা দিতে হবে। বেতন বৈষম্য কমাতে হবে।

 ➡ ৫) কাউকে পেছনে ফেলবো না

আমরা দেখেছি শরণার্থীরা এই মহামারীতে বেশি পরিমান প্রভাবিত হয়েছে। তাই তাদের মাথা গোঁজার ও জীবনধারণের নুন্যতম অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। সমাজের প্রতিটি বর্গের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে WHO এর নির্দেশগুলি মেনে চলুন।

ধন্যবাদ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য।

আরও পড়ুনঃ করোনা মহামারীর সময় মানুষের ভুলভ্রান্তি যা করোনাকে আরো ভয়ংকর করছে।

Leave a Comment